মেনু নির্বাচন করুন

গ্রাম পুলিশের দায়িত্ত্ব

৯নং কড়ইয়া ইউনিয়ন পরিষদ

কচুয়া-চাঁদপুর।

ই-মেইল: no.9kariyaup@gmail.com

 

গ্রাম পুলিশের ক্ষমতা ও কার্যাবলী


 

গ্রাম পুলিশের সদস্যদেরকে যেকোন নাম বাউপাধিতেই ডাকা হোক না কেন তারা স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ এরতফসীল-১ এর ২য় অংশে বর্ণিত ক্ষমতা প্রয়োগ এবং কর্তব্য পালন করেন।

গ্রাম পুলিশের ক্ষমতা ওকার্যাবলী

·         একজন গ্রাম পুলিশ দিনে ও রাতে ইউনিয়নে পাহাড়াও টহলদারী করেন।

·         অপরাধের সংগে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় অনুসন্ধান ওদমন করেন এবং অপরাধীদের গ্রেফতার করতে সাধ্যমত পুলিশকে সহায়তা করেন।

·         চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদকে সরকারী দায়িত্বপালনে সহায়তা করেন।

·         অন্য নির্দেশ না থাকলে প্রতি পনের দিন অন্তরএলাকার অবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করেন।

·         ইউনিয়নের খারাপ চরিত্রের লোকেদের গতিবিধিলক্ষ্য করেন এবং মাঝে মাঝে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। পাশের এলাকাথেকে আগত কোন সন্দেহজনক ব্যক্তির উপস্থিতি সম্পর্কেও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেঅবহিত করেন।

·         ইউনিয়নে লুকিয়ে থাকা কোন ব্যক্তি, যার জীবনধারণের জন্য প্রকাশ্য কোন আয় নেই বা যে তার নিজের পরিচয় সম্পর্কে সন্তোষজনক কোনজবাব দিতে পারেনা, এমন লোক সম্পর্কে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট রিপোর্টপ্রদান করেন।

·         থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সে সকল বিষয়সম্পর্কে অবহিত করেন, যা বিরোধ, দাংগা-হাংগামা বা তুমুল কলহ সৃষ্টি করতে পারে এবংজনগণের শান্তি বিঘ্নিত করতে পারে।

·         ইউনিয়নে নিম্নলিখিত অপরাধ ঘটলে বা ঘটারসম্ভবনা সম্পর্কে কোন তথ্য জানতে পারলে তা দ্রুত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেঅবহিতকরেন। যেমন-

1.       দাংগা-হাংগামা,

2.       গোপনে মৃতদেহ সরিয়ে জন্ম সংক্রান্ত তথ্য গোপনকরা,

3.       কোন শিশুকে বাড়ি হতে বের করে মৃত্যুর মুখেঠেলে দেওয়া,

4.       আগুনের সাহায্যে সংঘটিত ক্ষতি,

5.       বিষ প্রয়োগে গবাদিপশুর অনিষ্ট বা ক্ষতিকরা,

6.       নরহত্যা বা আত্মহত্যার প্রচেষ্টা এবং উপরেউল্লেখিত অপরাধ সংঘটন বা অপরাধ সংঘটন করার চেষ্টা।

1.       আমলযোগ্য অপরাধের সাথে জড়িত কোন ব্যক্তি বাযার বিরুদ্ধে যথার্থ অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে বা বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়া গেছে বাকোন অপরাধমূলক কাজের সহিত জড়িত থাকার যুক্তিসংগত কারন রয়েছে।

2.       বৈধ কারন ছাড়াই কোন ব্যক্তির কাছে ঘর ভাঙ্গারসরঞ্জাম পাওয়া গেলে।

3.       সরকারের কোন আদেশ বলে বা ১৮৯৮ সালের ফৌজদারীকার্যবিধির (১৮৯৮ সালের ৫ নং আইন) অধীন কোন ব্যক্তিকে যদি অপরাধী ঘোষণা করাহয়।

4.       যে কোন ব্যক্তি যার অধিকারে এমন সকল দ্রব্য বামাল রয়েছে যা চোরাই মাল বলে সন্দেহ করার যথার্থ কারন রয়েছে বা এ মাল দেখে সে কোনঅপরাধ সংঘটনের সাথে জড়িত আছে বলে যথার্থভাবে সন্দেহ হলে।

5.       বৈধ হেফাজত বা তত্ত্বাবধান হতে কোন ব্যক্তিপালিয়ে গেলে বা পালাবার চেষ্টা করলে।

6.       কোন ব্যক্তি কোন সরকারী কর্মচারীকে তার সরকারীদায়িত্ব পালনে বাঁধা দিলে।

7.       এমন কোন ব্যক্তি যাকে বাংলাদেশসেনাবাহিনী,নৌ-বাহিনী বা বিমান বাহিনীর পলাতক সৈনিক বলে যথার্থভাবে সন্দেহহলে।

8.       মুক্তিপ্রাপ্ত কোন অপরাধী ১৮৯৮ সালের ফৌজদারীকার্যবিধির (১৮৯৮ সালের ৫ নং আইন ৫৬৫ ধারায়) (৩) উপধারার কোন বিধান ভংগ করলে।

·         উপরে উল্লেখিত অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধ অথবাআদালতে গ্রহণযোগ্য যেকোন অপরাধ বন্ধ করতে বা বন্ধ করার ক্ষেত্রে মধ্যস্থতা করারক্ষেত্রে যথাসাধ্য চেষ্টা করেন।

·         জন্ম ও মৃত্যু রেজিস্ট্রার সংরক্ষণ এবং জন্ম ওমুত্যু সম্পর্কে ইউনিয়ন পরিষদকে অবহিত করেন।

·         মানুষ বা পশু বা ফসলের মধ্যে কোন মহামারী বাসংক্রামক রোগ বা পোকার আক্রমণ ব্যাপক আকারে দেখা দিলে সাথে সাথে ইউনিয়ন পরিষদকে এসম্পর্কে অবহিত করেন।

·         কোন বাঁধে বা সেচে ক্ষতি বা ত্রুটি দেখা দিলেঅনতিবিলম্বে ইউনিয়ন পরিষদকে অবহিত করেন।

·         সরকারী কাজের উদ্দেশ্যে যেকোন স্থানীয় তথ্যসরবরাহ করেন।

·         খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর,স্থানীয় কর,ফি বাঅন্য পাওনা সংগ্রহ ও আদায়ে তিনি রাজস্ব কর্মচারীদের সহায়তা করেন।

·         অধ্যাদেশের অধীনে কোন অপরাধ সংঘটন বা সংঘটনেরঅভিপ্রায় সম্পর্কে জ্ঞাত হলে বা জানতে পারলে তা ইউনিয়ন পরিষদকে অবহিত করেন।

·         ইউনিয়ন পরিষদের বা ইউনিয়ন পরিষদের অধিকারেন্যস্ত কোন স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষতি সাধন বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি বাঅন্যায় দখল সম্পর্কে তিনি অবিলম্বে ইউনিয়ন পরিষদকে অবহিত এবং এ ধরণেরক্ষতি,প্রতিবন্ধকতা বা অন্যায় দখল রোধ করার জন্য মধ্যস্থতা করেন।

·         ইউনিয়ন পরিষদের নির্দেশে কোন বাসিন্দারআবাসস্থল বা সম্পত্তির উপর পরোয়ানা জারি করেন।

·         গ্রাম পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ও ওয়ারেন্টবা গ্রেফতারী পরোয়ানা ছাড়াই নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে গ্রেফতার করতে পারেন:

·         সাধারণ লোক কোন ব্যক্তিকে বৈধভাবে গ্রেফতারকরলে তিনি তাদের সাহায্য করেন এবং দেরী না করে এধরণের গ্রেফতার সম্পর্কে থানারভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করেন।

·         গ্রামে কর্মরত সরকারী কর্মচারী বা কোন সাধারণলোক সাময়িক ভাবে বলবৎ কোন আইন বলে কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করলে তিনি তার দায়িত্বগ্রহণ করেন এবং তিনি যে ব্যক্তির বা ব্যক্তিবর্গের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বা তিনিনিজেই যে ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের গ্রেফতার করেছেন তাদেরকে অনতিবিলম্বে থানারভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট হাজির করবেন। তবে শর্ত থাকে যে, রাতের অন্ধকারে কোনব্যক্তি বা ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা হলে তাকে বা তাদেরকে গ্রামে বৈধ তত্ত্বাবধানেরাখা যেতে পারে। কিন্তু পরদিন সকালে সম্ভাব্য তাড়াতাড়ি সময়ে তাদেরকে থানায় হাজিরকরতে হয়।

·         বিভিন্ন সময়ে আইন অনুযায়ী তার উপর অর্পিতদায়িত্ব পালন করেন। উপরোক্ত কার্যাবিলী ছাড়াও গ্রাম পুলিশ এলাকার বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকরেন।

·         অস্বাভাবিক মৃত্যু বা খুনের ক্ষেত্রে লাশপাহাড়া দেন এবং থানায় পৌঁছনো পর্যন্ত লাশের সঙ্গে থাকেন।

·         এলাকায় থানার পুলিশ এলে সবসময় তাদের সাথেথাকেন।

·         উঁচু পর্যায়ের সরকারী কর্মকর্তাগণ পরিদর্শনেএলে তাদেরকে সার্বিক সহায়তা করেন।

·         আদালতের মামলা মোকদ্দমার তারিখ জারি এবংইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের আদেশ অনুসারে কাজ করেন।

·         গ্রাম আদালতে বিচার চলাকালে উপস্থিতথাকেন।

গ্রাম পুলিশগণ থানা এবং ইউনিয়ন পরিষদের যৌথনিয়ন্ত্রণে কাজ করেন; প্রতি সপ্তাহে তারা থানা এবং সময় সময় ইউনিয়ন পরিষদে হাজিরাদেন।